মাথা ব্যথার কারণ: ঘন হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

বিষয়তথ্যবিস্তারিত
সংক্ষেপেমাথাব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা, প্রায় ৭৫% প্রাপ্তবয়স্ক বছরে অন্তত একবার অনুভব করেন। এর কারণ হতে পারে স্ট্রেস, ঘুমের অভাব, পানিশূন্যতা, চোখের চাপ, ঘাড়ের সমস্যা ইত্যাদি।
কার জন্যযারা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার বা মোবাইলে কাজ করেন, নিয়মিত ঘুম-খাবার এড়িয়ে যান, মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, অথবা যাদের ঘাড়ের কন্ধকাঠিন্য আছে, তাদের বেশি মাথাব্যথা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রাথমিক মাথাব্যথার ত্রিগারগুলির মধ্যে স্ট্রেস, খারাপ ভঙ্গি, অনিদ্রা, পানিশূন্যতা, নির্দিষ্ট খাবার-দ্রব্য এবং হরমোনের পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত। ঘাড়ের সমস্যাও (সার্ভিকোজেনিক হেডেক) মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
প্রতিকার ও সমাধানপর্যাপ্ত পানি পান করুন, প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমান, চাপ কমান এবং নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করুন। ব্যথা হলে প্যারাসিটামল বা ননস্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি (NSAID) মতো ওষুধ নেওয়া যেতে পারে। টানা কাজের ফাঁকে ছোট বিরতি নিন ও ঘাড়-নাড়ির ব্যায়াম করুন।

পরিচিতি: মাথাব্যথা কি?

মাথাব্যথা (headache) বলতে মাথার যেকোনো অংশে অনুভূত ব্যথাকে বুঝায়। এটি অত্যন্ত সাধারণ একটি সমস্যা; বিশ্বের প্রায় ৭৫% প্রাপ্তবয়স্ক বছরে অন্তত একবার মাথাব্যথার সম্মুখীন হন। মাথাব্যথা হালকা থেকে তীব্র, থরথর করে বা নিস্তেজ হতে পারে। অনেক সময় মাথাব্যথা স্বল্প মেয়াদী হলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি পুনরাবৃত্তিমূলক বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। মাথাব্যথা সাধারণত একটি উপসর্গ, যার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে, যেমন টেনশন, মাইগ্রেন, সাইনুসাইটিস, চোখের সমস্যা ইত্যাদি। সঠিক কারণ না জানা থাকলে শুধু লাক্ষণিক ওষুধ খেয়ে নেওয়া সমাধান না-ও হতে পারে; বরঞ্চ কারণ চিহ্নিত করে তাকে ঠিকঠাক চিকিৎসা করা জরুরি।

শুরু থেকেই মাথাব্যথা সাধারণ কোনও অসুখ নয়, বরং বিভিন্ন কাজ এবং জীবনযাত্রার কারণে হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, নিচের ছবিতে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে কাজ করার পর একজন অফিস কর্মী মাথা ধরে শ্বাস নিতে ব্যথায় ভুগছেন। অফিসে বা বাড়িতে টানা ডেস্ক-ওয়ার্ক, খারাপ ভঙ্গি এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে এই ধরনের টেনশন টাইপ মাথাব্যথা হতে পারে।

মাথাব্যথার প্রধান শ্রেণীবিভাগ

প্রাথমিক (Primary) মাথাব্যথা: মাইগ্রেন, টেনশন-প্রকার এবং ক্লাস্টার মাথাব্যথা। এগুলো মস্তিষ্কের রাসায়নিক, স্নায়ু বা রক্তনালীর সমস্যার কারণে হয়। উদাহরণস্বরূপ, টেনশন মাথাব্যথা সাধারণত মাথার দুই পাশে চাপের অনুভূতি দিয়ে থাকে; এতে প্রাধান্য পায় স্ট্রেস, মাংসপেশী স্ট্রেন এবং অপ্রতুল বিশ্রাম। মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা একপাশে তীব্র কম্পন সহ হতে পারে এবং এটি বমি, আলোর অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি সরাসরি লক্ষণও নিয়ে আসে।

দ্বিতীয়ক (Secondary) মাথাব্যথা: কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যা থেকে উদ্ভূত মাথাব্যথা, যেমন সাইনাস সংক্রমণ, চোখের চাপ, মাথায় আঘাত, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি। উদাহরণস্বরূপ, সাইনুসাইটিস হলে নাকের চারপাশের গহ্বর ফুলে যায়, যার ফলে নাক-জোনের চাপ বৃদ্ধি পেয়ে সাইনাস মাথাব্যথা হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যথানাশক সেবন অথবা মাইগ্রেনের ওষুধ কম সময়ে বার বার খেলে ‘রিবাউন্ড হেডেক’ নামক সমস্যাও হতে পারে।

মাথাব্যথার ট্রিগার (শুরুর কারণ)

অনেকে লক্ষ্য করেন, এমন কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস বা পরিবেশ মাথাব্যথা ট্রিগার করে। সাধারণ ট্রিগারগুলির মধ্যে রয়েছে মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, অনিয়মিত ঘুম, মিসড মিল, চোখের অতিরিক্ত চাপ, কঠোর ব্যায়াম এবং হরমোন পরিবর্তন। উদাহরণস্বরূপ, নির্দিষ্ট কিছু খাবারের (যেমন পুরনো চিজ, সসেজ) উপযোগে থাকা নাইট্রেট বা টাইরামিন শরীরে গেলে মাইগ্রেন ঘনিয়ে যেতে পারে। আমাদের অনেকেই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দ্রুত কাজ শুরু করে দেহ জলশূন্য থাকে, তাতেও মাথাব্যথা হতে পারে। অতিবেগুনি সূর্যের আলো বা উজ্জ্বল আলোও অনেককেই আঘাত করে, যা মাথাব্যথার ট্রিগার হিসেবে কাজ করে।

অবশ্যই পড়বেন:  শরীর দুর্বল লাগার কারণ ও ক্লান্তি দূর করার ৭টি ঘরোয়া উপায়

সমীক্ষায় দেখা গেছে, গরম পরিবেশ বা সূর্যালোক মাইগ্রেন মাথাব্যথার সময় বাড়িয়ে দিতে পারে। ছবিতে একজন যুবক দেখছেন সূর্যাস্তের সময় টেরেসে দাঁড়িয়ে মাথার ওপরে হাত রেখে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করছেন। প্রকৃতপক্ষে, বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে ফ্লিকারিং লাইট, ঝলমলে সূর্যালোক কিংবা স্ট্রোব-লাইটের মত দৃশ্যও মাথা ব্যথা বাড়াতে পারে।

মাথাব্যথা ট্রিগার: মানসিক চাপ, পানি কম খাওয়া, ঘুম কম
মাথাব্যথা ট্রিগার: মানসিক চাপ, পানি কম খাওয়া, ঘুম কম

ঘাড় এবং মাথাব্যথার সম্পর্ক (সার্ভিকোজেনিক মাথাব্যথা)

গলা ও ঘাড়ের সমস্যা থেকেও মাথাব্যথা হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে বলা হয় সার্ভিকোজেনিক হেডেক (Cervicogenic Headache)। ঘাড়ের উপরের অংশের পেশী, ডিস্ক, জয়েন্ট বা নার্ভ আক্রান্ত হলে গলার ব্যথার সংকেত মস্তিষ্ক আলাদাভাবে গ্রহণ করে, ফলে রোগী মনে করেন ব্যথা মাথাতেই হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ঘাড়ের ডিস্কে চাকা জড়ানো বা সেরিব্রাল স্পাইনাল ফ্লুইডের চাপ কমে যাওয়া থেকেও মাথায় ব্যথা অনুভূত হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে খারাপ ভঙ্গিতে বসে কাজ করলে বা মাথা ঘোড়ালে মাথাব্যথা বেড়ে যেতে পারে। ঘাড়ের কারণে মাথা ব্যথার ক্ষেত্রে ঘাড় পেছনের অংশে চুলকানি, চোখ পেছনের কম্পন বা গলাবাঁধা টান অনুভূত হতে পারে। দ্রুত সঠিক চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ঘন ঘন মাথা ব্যথার কারণ

প্রতি সপ্তাহে বা মাসে একাধিকবার মাথাব্যথা হলে সেটা ঘন ঘন মাথাব্যথা (চিরস্থায়ী বা chronic headache) হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর পেছনে সাধারণত মাইগ্রেন, টেনশন হেডেক অথবা ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার দায়ী। লাইফস্টাইল ফ্যাক্টর যেমন অনিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ, পানিশূন্যতা ও খাওয়ার অভাব এই অবস্থাকে আরও তীব্র করে। উদাহরণস্বরূপ, যাদের দৈনিক কাজের চাপ অনেক বেশি, পরিবার বা অফিসের স্ট্রেস থাকে, তারা মাঝে মাঝে প্রচণ্ড মাথাব্যথা অনুভব করেন। যদি মাথাব্যথা সপ্তাহে ১৫ দিন বা তার বেশি হয় এবং তিন মাসের বেশি থাকে, তাহলে সেটা ক্রনিক ডেইলি হেডেক হতে পারে।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ? যদি ঘন ঘন মাথাব্যথা আপনার দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত করে, ওষুধ সেবনে উন্নতি না হয় অথবা মাথাব্যথার সঙ্গে বমি, জ্বর, হাত-পা শক্ত হয়ে যাওয়া বা দৃষ্টি-লাপতা হলে দ্রুত চিকিৎসকের সাক্ষাৎ নিন। তবে সবার আগে নিজের মাথার ধরন বোঝার চেষ্টা করুন এবং ট্রিগারগুলো এড়ানোর চেষ্টা করুন। অনেক সময় জীবনধারার ছোটখাটো পরিবর্তনে মাথাব্যথা কমে যায়।

মাথাব্যথা প্রতিরোধ ও যত্ন

মাথাব্যথা কমাতে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। নিচের পরামর্শগুলো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করবে:

  • পর্যাপ্ত পানি পান: প্রতিদিন অন্তত ৬–৮ গ্লাস পানি পান করুন। পানিশূন্যতা অনেক সময় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
  • নিয়মিত ঘুম: প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ভাল ঘুম নিশ্চিত করুন। অনিয়মিত ঘুম (খুব বেশি বা কম ঘুম) মাথাব্যথার ট্রিগার হতে পারে।
  • শিথিলতা ও ব্যায়াম: নিয়মিত ধ্যান, যোগব্যায়াম বা হালকা হাঁটাহাঁটিতে স্ট্রেস কমে। গলার এবং মেরুদণ্ডের হালকা-ব্যায়াম ঘাড়ের ব্যথা উপশম করে।
  • বিরতি নিন: দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ৫–১০ মিনিট হাঁটুন বা টেবিলে পেছনে সরান। চোখের ক্লান্তি দূর করতে স্ক্রিন থেকে বিরতি নিন।
  • সুস্থ খাদ্যাভ্যাস: মিসড মিল এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও তেল-মসলাযুক্ত খাবার কম করুন, কারণ এগুলো অনেকের মাথাব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে।
  • স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: গরম-ঠান্ডার মেডিটেশন, পছন্দের গান বা প্রকৃতির ছায়ায় সময় কাটিয়ে মানসিক চাপ কমান। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে টেনশন টাইপ হেডেক কম হয়।
অবশ্যই পড়বেন:  স্ক্যাবিস দূর করার ঘরোয়া উপায়: কার্যকর প্রতিকার ও প্রতিরোধ

মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম

মাথাব্যথার তীব্রতা ও কারণ অনুযায়ী ডাক্তার ভিন্ন ধরনের ওষুধ সাজেস্ট করতে পারেন। প্রধান কিছু সাধারণ ব্যথানাশকের নাম নিচে দেওয়া হলো:

  • প্যারাসিটামল (Paracetamol): সাধারণ মাথা ব্যথা ও জ্বর কমাতে সর্বাধিক ব্যবহৃত। পাকস্থলীর ক্ষতি কম হওয়ায় নিরাপদ।
  • আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen): NSAID শ্রেণীর ব্যথানাশক, প্রদাহও কমায়। টাইপ-টেনশন হেডেক ও সাধারণ মাইগ্রেনে কার্যকর।
  • অ্যাসপিরিন (Aspirin): NSAID ওষুধ, বাস্ক্রেট-নামেও পরিচিত। হালকা-তীব্র মাথাব্যথা উভয়ে কাজে লাগে। শর্ত-অনুসারে ব্যবহার করতে হয়।
  • নাপ্রক্সেন (Naproxen): NSAID গ্রুপের ব্যথানাশক, দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস বা আর্থ্রাইটিস সংক্রান্ত মাথাব্যথায় দেওয়া হয়।
  • ডাইক্লোফেনাক (Diclofenac): NSAID, টান বা প্রদাহজনিত ব্যথা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। চাপজনিত সাইনাস বা ঘাড়ের ব্যথায় বিশেষভাবে ব্যবহার করা হয়।
  • এসেক্লোফেনাক (Aceclofenac): NSAID, পেশী ও জয়েন্টের প্রদাহ উপশমে ব্যবহৃত। মাইগ্রেনে বিকল্প হিসেবে প্রায়ই দেওয়া হয়।
  • সুম্যাট্রিপটান (Sumatriptan): ট্রিপটান গ্রুপের মাইগ্রেন ওষুধ, বিশেষ করে মধ্যম বা তীব্র মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে সক্রিয়। মাথা ব্যথা কমিয়ে বমি ও অসস্থতার উপসর্গও কমাতে সাহায্য করে।
  • রিজাট্রিপটান (Rizatriptan): আরেকটি ট্রিপটান; সুম্যাট্রিপটানের মতো দ্রুত কার্যকর। মাইগ্রেনের আক্রমণ শুরুতেই নিতে হয়।
  • মেটোক্লোপ্রামাইড (Metoclopramide): স্ব-চিকিৎসার নয়, বমি ভাব বা বমির সঙ্গেই মাথাব্যথায় দেওয়া হয়। ওষুধ শুষ্কতা কমিয়ে ব্যথা সহ উপসর্গ উপশমে সহায়তা করে।
  • প্রোপ্রানোলোল (Propranolol): গ্লুকোজ গ্রহণের মাত্রা কমানোর ওষুধ, মাইগ্রেন প্রতিরোধী তৃতীয় পর্যায়ের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। শারীরিক ওষুধ নয়, প্রতিরোধমূলকভাবে দিনে একবার দিতে হতে পারে।

নোট: যেকোনো ওষুধ নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ওষুধগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং ডোজ সম্পর্কে মনোযোগ দিন। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে রিবাউন্ড মাথাব্যথার ঝুঁকি থাকে, তাই প্রয়োজনে চিকিৎসক পরিবর্তনীয় পরিকল্পনা দেবেন।

FAQ

প্রশ্ন: মাথাব্যথা কীভাবে নির্ণয় করবেন?

উত্তর: সাধারণ মাথাব্যথা টেনে নেওয়া ব্যথা বা কম্পন মুক্ত হয়, কিন্তু ক্রমাগত তীব্র হলে ডাক্তারের পরীক্ষা প্রয়োজন। ডাক্তার আপনার উপসর্গ এবং জীবনযাপন দেখে প্রাথমিকভাবে ধরন নির্ণয় করবেন; প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা, সিটি বা এমআরআই করা যেতে পারে।

প্রশ্ন: ঘন ঘন মাথাব্যথা কেন হয়?

উত্তর: সাধারণ কারণে রয়েছে মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, পানিশূন্যতা, চোখের ক্লান্তি, ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার ইত্যাদি। এই সব ট্রিগার বার বার মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী বা তীব্র মাথাব্যথার ক্ষেত্রে ডাক্তার দেখুন।

প্রশ্ন: ঘাড়ের ব্যথা মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে?

উত্তর: হ্যাঁ, ঘাড়ের সমস্যাও মাথাব্যথার উৎস হতে পারে (সার্ভিকোজেনিক হেডেক)। ডিস্ক, জয়েন্ট অথবা পেশীর সমস্যা মাথার পেছনে ব্যথা ছড়িয়ে দিতে পারে। ঘাড়ের ভঙ্গি ঠিক করে, ব্যায়াম বা ফিজিওথেরাপি করলে সাহায্য পাওয়া যেতে পারে।

প্রশ্ন: মাথা ব্যথার জন্য কী পরিমাণ পানি পান করা উচিত?

উত্তর: মাথাব্যথা প্রতিরোধে দিনে অন্তত ৬–৮ গ্লাস পানি পান করুন। পানিশূন্যতা অনেক ক্ষেত্রে মাথাব্যথা ট্রিগার করে। বডি হাইড্রেটেড রাখলে শরীর ভালো কাজ করে এবং মাথাব্যথার ঝুঁকি কমে।

প্রশ্ন: মাথাব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় কী?

উত্তর: ঝাপসা আলো এড়িয়ে শান্ত পরিবেশে বিশ্রাম নিন। ঠান্ডা প্যাক অথবা গরম নরম টাওয়েল মাথার সামনের অংশে দিন। কনট্রাস্ট শাওয়ারও রক্তবাহ বৃদ্ধি করে উপকারী হতে পারে। এছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান করুন, অল্প ব্যায়াম এবং চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।